Breaking

Friday, June 28, 2019

স্ত্রী মিন্নির সামনে প্রকাশ্য কুপিয়ে হত্যা স্বামী রিফাতকে

 ২৬/৬/২০১৯ইং রোজ বুধবার বেলা সাড়ে ১০টার দিকে বরগুনার সরকারি কলেজের সামনে প্রকাশ্যে স্ত্রীর মুন্নির সামনেই রিফাত শরীফকে কুপিয়ে জখম করেন হত্যা করল , স্থানীয় বখাটে ছেলে নয়ন বন্ড ও তার সহযোগীরা মোট ১২ জন মিলে । পরিল্পিত ভাবে এ ঘটনাটি ঘটায় নয়ন বন্ড ও তার সহযোগীরা । গুরুতর আহত অবস্থায়  রিফাতকে প্রথমে বরগুনা সদর হাসপাতাল ও শেবাচিম হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকেল ৪টার দিকে রিফাতের মৃত্যু হয় ।


সবার চোখের সামনে শাহ নেয়াজ রিফাত শরীফকে  কুপিয়ে চলে যায় হামলাকারীরা । কুপিয়ে হত্যার সময় কেউ এগিয়ে আসেনি। রিফাতের স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, ‘আমি শত চেষ্টা করেও আমার স্বামীকে রক্ষা করতে পারিনি । আমার সামনেই নয়ন বন্ড ও তার সহযোগীরা তাঁকে কুপিয়ে হত্যা করেছে ।’

গত ২৭/৬/২০১৯ ইং বৃহস্পতিবার সকালে বরগুনা পুলিশ লাইন এলাকায় তার বাবার বাড়িতে সাংবাদিকদের কাছে হামলার বর্ণনা দেন মিন্নি । নয়ন বিভিন্ন সময়  বিভিন্ন ভাবে তাঁকে বিরক্ত করতেন এবং সেটা পরিবারকে না জানানো জন্য হুমকিও দিতো নানা ভাবে। তিনি দাবি করেন, নয়ন, আমার জানা মতে-রিশান ফরাজী ও রিফাত ফরাজীসহ কয়েকজন মিলে এ হামলা চালিয়েছে।

রিফাতের সঙ্গে তাঁর বিয়ের পর থেকেই নয়ন মিন্নিকে উত্ত্যক্ত করে আসছেন বিভিন্ন ভাবে বিভিন্ন স্থানে । রিফাতের বাবা আব্দুল হালিম দুলাল শরীফ গণমাধ্যমকে বললেন , বিয়ের পর থেকেই তাঁর ছেলের বউকে উত্ত্যক্ত করতে থাকে হামলাকারী নয়ন। ফেসবুকেও  এসব আজেবাজে কথা চলাতে থাকে । একথা জেনে- রিফাতের সঙ্গে নয়নের কথায় কথায় বিরোধ সৃষ্টি হতে থাকে । এর জের উপর কেন্দ্র করে বুধবার সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে সরকারি কলেজে কাছে ক্যালিক্স কিন্ডারগার্টেনের সামনে শতশত পথচারীর উপস্থিতিতে স্ত্রীর সামনে রিফাত শরীফকে (২৫) কুপিয়ে চলে যায় হামলাকারীরা। কেউ তাদের ভয়ে এগিয়ে আসেনি । 


 সবাই চেয়ে চেয়ে দেখল পুরো ঘটনাটি ।  রিফাতের স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি শত চেষ্টা করেও স্বামী রিফাত শরীফকে বাচাতে পারলো না । গুরুতর আহত অবস্থায় রিফাতকে প্রথমে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করানো হয় । এরপর বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (emargency) তে পাঠানো হয় । বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজে ভর্তির এক ঘন্টা পরেই বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে রিফাতের মৃত্যু হয়।

এদিকে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ১২ জনকে আসামি করে রিফাতের বাবা বুধবার রাতেই বরগুনা সদর থানায় মামলা করেন। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার ভোরে পুলিশ চন্দন নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে ।

এছাড়া রিফাতকে কুপিয়ে হত্যার একটি ভিডিও বরগুনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে এবং সেটা ভাইরাল হয়। ভিডিওটিতে দেখা যায়, দুই হামলাকারী যুবক রাম দা দিয়ে একের এর এক কোপাচ্ছে রিফাতকে। তাঁর স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি দুই যুবককে বারবার প্রতিহত করার চেষ্টা করে যাচ্ছে । আক্রমণকারী দুজনকে ধাক্কা দিয়ে সরানোর চেষ্টা করছেন মিন্নি । হামলাকারীরা  স্ত্রী  মিন্নিকে সরিয়ে দিয়ে রিফাতকে কোপাতেই আছে । মিন্নি ছুটে গিয়ে বারবার তাদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছেন। একজনকে সরিয়ে দেন তো আরেক জন এসে রিফাতকে কোপাচ্ছে। স্বামীকে বাঁচাতে মিন্নি বারবার চিৎকার করলেও কেউ এগিয়ে আসেনি । 


রিফাতকে গুরুত্বর রক্তাক্ত করে হামলাকারীরা সবার সামনে দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে । এ ঘটনায় এলাকায় নিন্দা ও প্রতিবাদ চলছে। এলাকাবাসী বলছে, রিফাত ছিল বাবার এক মাত্র খুবই ভদ্র ছেলে । তাঁকে যেভাবে হত্যা করা হয়েছে তা খুবই দুঃখজনক। এ নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করেছেন এলাকাবাসী ।

বরগুনায় নৃশংসভাবে রিফাত শরীফের হত্যার বিচারের দাবিতে পাশে থাকার অঙ্গীকার জানিয়েছেন ব্যারিস্টার সাইয়েদুল হক সুমন । তিনি মনে করছেন , রিফাতের ওপর যে দায়ের কোপ সন্ত্রাসীরা বসিয়েছেন, সেই কোপ সবার জন্যই অপেক্ষা স্বরূপ । গত বুধবার সকালে স্ত্রীর সামনেই রিফাতকে কুপিয়ে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা ।


আজ বৃহস্পতিবার রাতে নিজের ফেসবুক পাতায় দেওয়া এক স্ট্যাটাসে সুমন লেখেন, ‘এই দায়ের কোপ শুধু রিফাত নয়, আমাদের সবার জন্য অপেক্ষা স্বরূপ । যদি এখনই এর প্রতিবাদ এবং প্রতিরোধ না করা হয় তবে হয়ত অনেক দেরী হয়ে যাবে । আমি আছি এবং থাকব। আপনারাও আমাদের সাথে থাকুন।’

আমাদের এই পোষ্টটি ভালো লাগলে অবশ্যই আমাদের ফেসবুক পেজ এ লাইক বাটন ক্লিক করে পরবর্তী নিউজের সাথে আপডেট থাকবেন। বন্ধুদের সাথে পোস্টটি শেয়ার করতে ভুলবেন না।
Image Source www.google.com

No comments:

Post a Comment

Clicky