Breaking

Thursday, January 5, 2012

পঞ্চম শ্রেনি - বিজ্ঞান- অধ্যায় দুই- ফুল, ফল ও সবজি চাষ

সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর:
১। ফুলগাছ লাগানোর জন্য মাটি কীভাবে তৈরি করা হয়, তা বর্ণনা কর।
উত্তর : ফুলের ফলন বৃদ্ধির জন্য ফুল চাষের জমি বা মাটি তৈরি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। মাটি তৈরি ভালো হলে ফুলের ফলন ভালো হয়। নিচে মাটি তৈরির ধাপগুলো বর্ণনা করা হলো_
ফুল চাষের জন্য খুব যত্ন করে মাটি তৈরি করতে হয়। বেশিরভাগ ফুল গাছই দোআঁশ মাটিতে ভালো জন্মে। তাই ফুল চাষের জন্য দোআঁশ মাটি ব্যবহার করতে হয়।
প্রথমে দোআঁশ মাটিযুক্ত জায়গা বেছে নিয়ে উত্তমরূপে চাষ করতে হয় বা কোদাল দিয়ে কুপিয়ে নিতে হয়।

এরপর ওই মাটিতে নানা রকম জৈবসার যেমন_ কমপোস্ট, গোবরপচা সার, আবর্জনাপচা সার, হাড়ের গুঁড়া, খৈল, ছাই, হাঁস-মুরগির বিষ্ঠা ইত্যাদি ব্যবহার করতে হয়।
টবে ফুলের চাষ করতে হলেও একইভাবে সার মেশানো মাটি টবে ভরাট করে ফুলের গাছ লাগানো হয়।
২। খুব সহজে কীভাবে কলম করা যায়?
উত্তর : বাগান তৈরির মাটিতে কিংবা টবের তৈরি মাটিতে ফুলের গাছের চারা অথবা কলম লাগানো যায়। খুব সহজ উপায়ে গাছের এ কলম তৈরি করা যায়। পাতাবাহার, রঙ্গন, টগর প্রভৃতি নির্বাচিত গাছের পাতাসহ ডাল কেটে বোতলের পানিতে গোড়ার দিক ডুবিয়ে রাখতে হবে। বোতলের পানি যেন শুকিয়ে না যায় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। বোতলের পানি শুকিয়ে গেলে আবার বোতলে পানি দিতে হবে। এভাবে কিছুদিন রাখার পর দেখা যাবে ডালের গোড়া থেকে শেকড় বের হয়েছে। এ শেকড়যুক্ত এবং রোপণের উপযোগী গাছের ডালই হলো কলম। এভাবে খুব সহজেই গাছের কলম তৈরি করা যায়।

৩। শীতকালীন শাকসবজির একটি তালিকা তৈরি কর।
উত্তর : শীতকালীন শাকসবজি : আমাদের দেশে শীতকালে যেসব শাকসবজি উৎপাদন হয় সেগুলোই শীতকালীন শাকসবজি। সাধারণত অক্টোবর থেকে মার্চ মাস (আশ্বিন থেকে ফাল্গুন মাস) শীতকালীন শাকসবজি উৎপাদনের সময় হিসেবে বিবেচিত হয়।
নিচে শীতকালীন শাকসবজির একটি তালিকা তৈরি করা হলো:
১. টমেটো 
২. লাউ
৩. শিম 
৪. ফুলকপি
৫. বাঁধাকপি‌
৬. মুলা
৭. গাজর 
৮. মটরশুঁটি
৯. পালংশাক ইত্যাদি

রচনামূলক প্রশ্ন:
প্রশ্ন: বাংলাদেশে কোন ঋতুতে কোন ফুল ফোটে তার বর্ণনা দাও।
উত্তর: ষড়ঋতুর দেশ আমাদের এই বাংলাদেশ। প্রতিটি ঋতুতে নানা রঙের, নানা গন্ধের ফুলে-ফলে ভরে ওঠে দেশের মাঠঘাট, প্রান্তর ও বাড়ির আঙিনা। প্রকৃতি এক অপরূপ সাজে সজ্জিত হয়। বাংলাদেশে বিভিন্ন ঋতুতে যেসব ফুল ফোটে তা নিচে দেওয়া হলো— 

গ্রীষ্মকালীন ফুল: গ্রীষ্মকালে দিন-রাতে বেশ গরম পড়ে। এ সময় ফোটে সূর্যমুখী, বেলি, অপরাজিতা ও নানা ধরনের লিলি।

বর্ষাকালীন ফুল: বর্ষাকালে আকাশে মেঘের ঘনঘটা আর অঝোর বর্ষণে ফোটে দোলনচাঁপা, টগর, কামিনী, গন্ধরাজ, কলাবতী, দোপাটি। 

শরৎ কালীন ফুল: কাশফুল শরৎ কালের বৈশিষ্ট্য। এ ছাড়া ফোটে শিউলি, বকুল ও হাসনাহেনা।

শীতকালীন ফুল: শীতের সময় আমরা সবচেয়ে বেশি বৈচিত্র্যময় ফুল দেখতে পাই। এ সময় ফোটে ক্যালেন্ডুলা, গাঁদা, জিনিয়া, কসমস, ডালিয়া, চন্দ্রমল্লিকা ইত্যাদি। 

বসন্তকালীন ফুল: বসন্তকালে ফোটে কাঞ্চন, পলাশ, শিমুল, কৃষ্ণচূড়া, জারুল ও রাধাচূড়া ইত্যাদি।

প্রশ্ন: ঋতুভেদে বাংলাদেশের পাঁচটি করে ফলের তালিকা তৈরি কর।
উত্তর : আমাদের দেশের সারাবছরই কিছু না কিছু ফল পাওয়া যায়। আমাদের দেশে যেসব ফল হয়, সেগুলোকে আমরা ঋতু অনুযায়ী তিনটি ভাগে ভাগ করতে পারি। নিচে এসব ফলের তালিকা দেওয়া হলো : 

১. গ্রীষ্ম কালীন ফল: আম, জাম, কাঠাল, লিচু, বাতাবি লেবু, বেল, তাল ইত্যাদি।
২. বর্ষাকালীন ফল: পেয়ারা, আমড়া, জামরুল ইত্যাদি।
৩. শীতকালীন ফল: কমলালেবু, বরই, জলপাই ইত্যাদি।
এছাড়াও কলা, পেঁপে, নারিকেল ইত্যাদি ফল কম-বেশি সারাবছরই পাওয়া যায়।

প্রশ্ন: ফলগাছ লাগানোর জন্য তুমি কী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বর্ণনা করো।
উত্তর : খাদ্য হিসেবে ফলের গুরুত্ব অপরিসীম। ফল খেলে দেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। মানুষের জীবনীশক্তি বৃদ্ধি পায়। তাই স্বাস্থ্য রক্ষার জন্য ফল অত্যন্ত প্রয়োজন। একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের দৈনিক ১১৫ গ্রাম ফল খাওয়া উচিত। আর প্রয়োজনীয় ফলের জন্য ফলগাছ লাগানো আবশ্যক। 

ফলগাছ লাগানোর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা:
১। সাধারণত বর্ষাকালে ফলগাছের চারা বা কলম লাগানো হয়ে থাকে। বর্ষার প্রথমেই ফলগাছ লাগানোর স্থান বেশ ভালো করে পরিষ্কার করে নিতে হবে।
২। এরপর মাদা (গর্ত) প্রস্তুত করে প্রতি মাদায় পরিমাণমতো গোবর সার ও অন্যান্য জৈবসার মিশিয়ে ফলের গাছ লাগাতে হবে।
৩। লক্ষ্য রাখতে হবে যেন গাছের গোড়ায় পানি না জমে।
৪। গবাদিপশুর হাত থেকে রক্ষা করার জন্য গাছের চারদিকে বেড়া দিতে হবে।
৫। মাঝে মধ্যে নিড়ানি দিয়ে ফলগাছের গোড়ার আগাছা পরিষ্কার করে দিতে হবে।
৬। গাছের গোড়ায় খুঁটি দিতে হবে যেন গাছের কাণ্ড হেলে না যায়।
৭। শুকনো মৌসুমে গাছের গোড়ায় পানি দিতে হবে।
উপরোক্ত ধাপগুলো অনুসরণ করে ফল গাছের চারা বা কলম রোপণ করলে কয়েক বছরের মধ্যেই ফল সংগ্রহ করা যায়।

প্রশ্ন: কীভাবে ফুল ও ফল গাছের যত্ন নেবে?
উত্তর: নিচে উল্লিখিত উপায়ে ফুল ও ফলগাছের যত্ন নেওয়া যায়।
আমাদের দেশে ষড়ঋতুতে যেমন নানা ফুল ফোটে, তেমনি নানারকম ফলও জন্মে। এসব ফুল ও ফল গাছের যত্নের ব্যাপারে আমাদের নিচের কাজগুলোর প্রতি বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখতে হবে_
ফুল গাছের যত্ন : ফুল গাছ লাগাতে হলে প্রথমেই মাটি ভালোভাবে তৈরি করে নিতে হবে। এরপর মাটির সঙ্গে বিভিন্ন জৈব সার যেমন_ গোবরপচা সার, আবর্জনাপচা সার, হাড়ের গুঁড়া, খৈল, ছাই, হাঁস-মুরগির বিষ্ঠা ইত্যাদি মেশাতে হবে। দোআঁশ মাটিতে ফুল গাছ ভালো জন্মে। ফুল গাছে নিয়মিত পানি সেচ দেওয়া এবং আনুষঙ্গিক যত্নের দিকে বিশেষভাবে খেয়াল রাখতে হবে। বাগানের তৈরি মাটিতে কিংবা টবের তৈরি মাটিতে ফুলগাছের চারা অথবা কলম লাগানো যায়। 

ফল গাছের যত্ন : ফুল গাছের মতো ফলের গাছও মাটিতে এবং টবে লাগানো হয়। দোআঁশ মাটিতে ফল গাছ ভালো হয়। মাটির সঙ্গে সার মিশিয়ে মাটি তৈরি করে গাছ লাগাতে হয়। বর্ষার শুরুতে গাছ লাগালে বৃষ্টির পানিতে তাড়াতাড়ি বড় হয়। গাছের গোড়ায় যেন পানি জমে না থাকে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। মাঝে মধ্যেই আগাছা পরিষ্কার করতে হয়। এছাড়া ফল আসার বেশ কিছুদিন আগে গাছের ঝোপঝাড়যুক্ত ডালপালা কেটে গাছকে পরিষ্কার করতে হবে। কিছু কিছু ফলে ফুল আসার আগে ও ফলের গুটি হওয়ার পর স্প্রে করতে হয়। শুকনো মৌসুমে গাছের গোড়ায় নিয়মিত পানি দিতে হবে। ফুল গাছ ও ফল গাছের চারায় অনেক সময় খুঁটি দিতে হয়। এতে গাছের কাণ্ড সবল থাকে।

2 comments:

  1. Excellent article. Keep writing such kind of info on your
    blog. Im really impressed by your site.
    Hi there, You have performed a fantastic job. I'll certainly digg it and
    for my part suggest to my friends. I'm confident they'll be benefited from this website.

    ReplyDelete
    Replies
    1. thanks for your appreciation. stay tuned with us always.

      Delete

Clicky